এবারের ঈদের আলোচিত সিনেমা ‘রইদ’। সাধু নামের এক যুবক ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবন সংগ্রামকে ঘিরে এগিয়েছে এর গল্প। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসায় ভাসছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ‘রইদ’ এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদুর রহমান
কেমন কেটেছে এবারের ঈদ?
অসাধারণ কেটেছে এবারের ঈদ। একে তো ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে প্রেক্ষাগৃহে নিজের সিনেমা মুক্তি। একসঙ্গে দুই আনন্দ মিলে খুব ভালো সময় কেটেছে এই ঈদে। ঈদে সিনেমা মুক্তি পাওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্য উচ্ছ্বাসের।
একসঙ্গে নয় সিনেমা মুক্তির বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
বিষয়টি আমি মন্দভাবে দেখছি না। এটিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই মনে করছি। ভিন্ন গল্পের অনেকগুলো সিনেমা দর্শকরা উপভোগ করতে পারছেন। ভালো হতো এভাবে নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলে। আগে যেমনটি হতো।
আপনার অভিনীত ‘রইদ’ প্রত্যাশানুযায়ী কতটা সাড়া ফেলেছে?
দারুণ সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটি দর্শকরা উপভোগ করছেন। গল্প, অভিনয়, লোকেশন, নির্মাণ সবকিছু নিয়ে কথা বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ‘রইদ’ নিয়ে লেখালেখি করছেন। বন্ধুবান্ধব, স্বজন, সহকর্মীরা শুভকামনা জানাচ্ছেন। এসব খুবই উপভোগ করছি। বিষয়গুলো পরবর্তী কাজের জন্য ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। আসলে সিনেমাটি নিয়ে আমাদের এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। নির্মাতা থেকে শুরু করে সিনেমার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের নিবেদিত কাজের প্রতিদান আজকের এই সুন্দর প্রাপ্তি।
সিনেমাটির গল্প ও প্রেক্ষাপট জটিল বলে অনেকের মন্তব্য...
একটা চলচ্চিত্র শব্দ, সংগীত, পারফরম্যান্স অনেক কিছু মিলে হয়। সবকিছুকে শুধু একটা গল্পের স্ট্রাকচারেই বাঁধতে হবে তা নয়, অনুভূতির স্ট্রাকচারেও বাঁধতে হয়। ‘রইদ’ সেই সিনেমা, যেটা অনুভূতি, আবেগ ও ঘোরের স্ট্রাকচারে বাঁধা। এই সিনেমা দেখতে বসে গল্প করা বা অন্য কিছুতে মন দিলে উপভোগ্য হবে না। মনোযোগ দিয়ে সিনেমাটি দেখলে জটিল হওয়ার কথা নয়।
‘রইদ’-এর সঙ্গে জড়িত হলেন কীভাবে। সিনেমার কোন বিষয়টি আপনাকে কাজে আগ্রহী করে?
সিনেমাটির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন ভাই আমাকে গল্পটি শোনান। সাধু চরিত্রের জন্য আমাকে লাগবে বলে জানান। গল্পটি আমার কাছে একেবারেই ব্যতিক্রম মনে হয়। খুব ভালো লাগে। সাধু চরিত্রটিও মনে ধরে। তবে মূলত এই প্রজেক্টের ভিশন আমাকে কাজটি করতে আগ্রহী করে তোলে। পরিচালকের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা গন্তব্য প্রথমে আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। সুমন ভাইয়ের মতো একজন পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করতে পারাটা সৌভাগ্যের বলে মনে করি।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
পুরো কাজটিই ছিল আমার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এক অসাধারণ জার্নি। এই জার্নি থেকে আলাদা করে কিছু বলাটা কঠিন। তবে এতটুকু বলতে পারি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এতটাই মগ্ন ছিলাম যে, কীভাবে দীর্ঘ সময় কেটে গেল টেরই পাইনি। কাজ শেষ হওয়ার পরই বুঝতে পারি এই যাত্রার এখানেই সমাপ্তি। তখন খারাপ লেগেছিল।
‘সাধু’ চরিত্রের প্রস্তুতিটা নিয়ে জানতে চাই?
মানসিকভাবে প্রস্তুতিটা শুরু হয় গল্প শোনা থেকে। আর শারীরিক প্রস্তুতিটা লোকেশন থেকে। লোকেশনে যাওয়ার পর থেকেই মূল প্রস্তুতি শুরু হয়। সেখানে চরিত্রের সঙ্গে যাপন করেছি, যাপন না করলে আসলে কাজ করা যায় না। সংলাপ বলা সহজ হলেও চরিত্রের গভীরে প্রবেশ কঠিন। চরিত্রটা হয়ে ওঠা সেটা সেখানে গিয়ে ধীরে ধীরে মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হয়েছে। পরিচালক সেই ইনপুটটা দিয়েছেন। চরিত্রের মনস্তত্ত্বটা উনি কীভাবে দেখেন, কীভাবে চান সেগুলো মাথায় রেখে চরিত্রে মিশে গেছি।
সহশিল্পী হিসেবে নাজিফা তুষিকে কেমন লেগেছে?
অনেক ভালো লেগেছে। নাজিফা তুষি মেধাবী অভিনেত্রী। এই সময়ের উজ্জ্বল তারকা বলে আমি মনে করি। তুষি প্রতিটি কাজে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে বারবার প্রমাণ করছে। এই প্রজন্মের কাছে খুব দ্রুতই সে আইকন হয়ে উঠবে। গুণী অভিনেত্রী হতে যেসব গুণ থাকা দরকার তুষির মধ্যে তা আছে।
সামনে কী কী কাজ নিয়ে আসছেন?
বেশ কিছু প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছি। ধীরে ধীরে সেগুলো মুক্তি পাবে। তবে দিনক্ষণ ঠিক করে বলতে পারছি না কোন কাজটি কবে দর্শকদের কাছে আসবে। সময় হলে সবাই জানতে পারবেন। আসলে মুক্তির আগে নিজের কাজ নিয়ে আগেই কিছু বলাটা আমার কাছে অস্বস্তিকর।
পরিচালনার দ্বিতীয় কাজের খবর কী?
পরিচালনায় আমার দ্বিতীয় কাজ চলছে। অনেকটা কাজ এগিয়েছি। প্রথম শিডিউলের শুটিং শেষ, দ্বিতীয় শিডিউলে যাব। আশা করছি দর্শককে আবারও অদ্ভুত কিছু দেখাতে পারব।
সময়ের আলো/আআ