চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান। আবারও ফুটবলের রঙে রাঙাতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ থেকে শুরু হচ্ছে সেই মহাযজ্ঞ, যার জন্য কোটি কোটি মানুষ দিন গুনে অপেক্ষা করে থাকে। তবে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে আয়োজন করছে ফুটবলের শ্রেষ্ঠ আসর। উত্তর আমেরিকার তিন প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে বিশ্বকে স্বাগত জানাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপ মানেই আবেগের বিস্ফোরণ, স্বপ্নের উড়ান আর সীমান্ত পেরিয়ে মানুষে মানুষে এক অদৃশ্য বন্ধনের গল্প। সেই গল্পের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে এমন এক আয়োজনে, যেখানে তিনটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে ফুটে উঠবে ফুটবলের বৈশ্বিক শক্তি। ফুটবল যে কেবল একটি খেলা নয়, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিলনমেলা, এবারের বিশ্বকাপ তারই নতুন প্রমাণ হতে যাচ্ছে।
এবারের আসর নানা কারণেই ব্যতিক্রমী। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ১৯৯৪ সালে এবং মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। কিন্তু কানাডার জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নাম লেখাচ্ছে দেশটি।
বিশ্বকাপের পরিধিও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। আজ (১১ জুন) মেক্সিকোর কিংবদন্তি এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের লড়াই। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৩৯ দিনের ফুটবল উৎসব।
এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধন। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত তিনটি অনুষ্ঠান হবে আলাদা, কিন্তু সবার মূল বার্তা এক, ফুটবল মানুষকে এক করে।
মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ঐতিহ্যের রঙে রাঙানো। ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প, লোকজ সংস্কৃতি ও লাতিন আমেরিকার প্রাণবন্ত আবহে সাজানো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা ও লিলা ডাউনসের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
টরন্টোতে কানাডা তুলে ধরবে তার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়। দেশটির বৈচিত্র্য, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে অনুষ্ঠানে। পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস ও নোরা ফাতেহিসহ অনেক তারকা।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজন হবে প্রযুক্তি, আলো আর বিনোদনের এক বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী। কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা ও রেমার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা মঞ্চ মাতাবেন সংগীত ও পারফরম্যান্সে।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত এই আয়োজন হবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদযাপন।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষেই শুরু হবে মাঠের লড়াই। এরপর টানা ৩৯ দিন বিশ্বজুড়ে চলবে উত্তেজনা, আবেগ, আনন্দ, হতাশা, অশ্রু আর উল্লাসের গল্প। কেউ লিখবে নতুন ইতিহাস, কেউ হারাবে স্বপ্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ আবারও মনে করিয়ে দেবে, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষার নাম ফুটবল। আর সেই ভাষার সবচেয়ে বড় উৎসবের পর্দা উঠছে আজ।
সময়ের আলো/আআ