ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার দেখা যাবে একেবারেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য। প্রথমবারের মতো একক উদ্বোধনী শহর বা একক অনুষ্ঠান নয়- একই সময়ে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা এই যৌথ আয়োজনের মাধ্যমে ভেঙে দিচ্ছে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সাধারণত একটি দেশেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে এসেছে। ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল একক শহরে। তবে এবারই প্রথম তিনটি আলাদা দেশে সমান গুরুত্ব দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস- এই তিন শহরে আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে আয়োজন শুরু হবে একসঙ্গে নয়, বরং সময়ের ব্যবধানে।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। তার ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানটি হবে তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, প্রায় ১৬-১৭ মিনিটের।
কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে, এরপর রাত ১টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এই আয়োজনেও থাকবে দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক সঙ্গীতের মিশ্রণ।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে সবচেয়ে বড় পরিসরে। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায় শুরু হয়ে সকাল সাতটায় মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। এখানে ভিজ্যুয়াল শো ও তারকাসমৃদ্ধ পারফরম্যান্সে আলাদা মাত্রা যোগ হবে।
তিন দেশের উদ্বোধনী আয়োজনের মূল থিম হলো- সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও ফুটবলের বিশ্বজনীন ঐক্য। মেক্সিকো সিটিতে আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ তুলে ধরা হবে।
সেখানে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান পরিবেশন করবেন শাকিরা, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ার বার্না বয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীও পারফর্ম করবেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন জে বালভিন, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা ও লিলা ডাউনস।
কানাডার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, আলেসিয়া ক্যারা এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়সহ আরও অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকছে সবচেয়ে বড় তারকাসমৃদ্ধ আয়োজন। সেখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা ও রেমাসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বাড়ে মূলত ২০১০ সালে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ পারফরম্যান্সের পর। এবারও তিনি মঞ্চে থাকছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এবারের উদ্বোধনী আয়োজন পরিচালনা করছেন মার্কো বালিচ, যিনি এর আগে একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার পরিকল্পনায় তিনটি শহরের অনুষ্ঠান ভিন্ন হলেও একটি অভিন্ন বার্তা বহন করবে- ফুটবল ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একত্র করে।
এএডি/