২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যু চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক ঘোষণায় জানানো হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে তিন দেশের ১২টি স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকবে আটটি, জিম্বাবুয়েতে তিনটি এবং নামিবিয়ায় একটি ভেন্যু।
এর মধ্য দিয়ে ২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। এর আগে ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া যৌথভাবে অষ্টম ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল।
জোহানেসবার্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যুগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট তারকা গ্রায়েম স্মিথ, মাখায়া এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা ও কাগিসো রাবাদা। এছাড়া জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং নামিবিয়ার রুডলফ জানসেন ভ্যান ভুরেনও উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি ভেন্যু হলো— জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, শোয়ানের সেঞ্চুরিয়ন, কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ডারবানের কিংসমিড ক্রিকেট গ্রাউন্ড, গেবেখার সেন্ট জর্জস পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মানগাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং কুগোমপো সিটির বাফেলো পার্ক।
জিম্বাবুয়ের তিনটি ভেন্যু হচ্ছে হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসে নির্মিত নতুন ফালে মোসি-ওয়া-টুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। অন্যদিকে নামিবিয়ার সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী উইন্ডহুকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২৪ বছর পর আফ্রিকায় এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। আমরা বিশ্বাস করি, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে এমন একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে, যা তাদের আতিথেয়তা, আবেগ এবং সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
২০২৭ বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এবার টুর্নামেন্টটি হবে নতুন তিন-স্তরের প্রতিযোগিতা পদ্ধতিতে। প্রথম ধাপে র্যাঙ্কিংয়ের ১২ থেকে ১৪ নম্বরে থাকা তিনটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলবে। সেখান থেকে একটি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
এরপর ১২ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ম্যাচের গ্রুপ পর্ব। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল এবং সবাই একে অপরের বিপক্ষে খেলবে।
গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল এবং নির্ধারিত নিয়মে পরবর্তী সেরা দল নিয়ে গঠিত হবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। সেখানে হবে ২১টি রাউন্ড-রবিন ম্যাচ। এই পর্ব শেষে শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। সেমিফাইনালে সুপার সেভেনের শীর্ষ দলটি খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের।
সময়ের আলো/এসএকে