বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে সেরাদের একজন রাসেল মাহমুদ জিমি। বয়সের অজুহাতে গত ১৭ মাস ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন এ অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। ফেডারেশনের আগের অ্যাডহক কমিটি জিমিকে তখন জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখেননি। এই ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে জিমির দীর্ঘ প্রতিজ্ঞার অবসান অবশেষে হতে চলেছে। জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্পে আজই যোগ দিচ্ছেন জিমি।
গত বছর এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্প ডাকা হয়। সেখানে উপেক্ষিত ছিলেন জিমি। বয়সের অজুহাত তো ছিলই, এমনকি তাকে ফিটনেস পরীক্ষার জন্যও ডাকা হয়নি। অথচ অনেক তরুণের চেয়ে তখন শতভাগ ফিট ছিলেন জিমি। ২০২৪ সালে প্রিমিয়ার লিগ হকিতে মোহামেডানের জার্সিতে দুর্দান্ত খেলেন এ ফরোয়ার্ড। এত কিছুর পরই মন গলেনি পূর্বের অ্যাডহক কমিটির।
হকির পুরোনো কমিটি বিদায় নিয়েছে, নতুন অ্যাডহক কমিটির হাতে এখন সব দায়িত্ব। বর্তমান কমিটি এসেই পুরোনো রীতি ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছে। বয়সের অজুহাতে কাউকে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা হয় জিমির। তিনি জানান, সবকিছুর জন্য আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া। দীর্ঘদিন পর আবার জাতীয় দলে ফিরছি। এ জন্য বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে ধন্যবাদ। আগের কমিটি আমার সঙ্গে যে অন্যায় করেছে, তার প্রতিবাদ আমি না করলেও আমাদের হকি অঙ্গন, মিডিয়ার সাংবাদিক ভাই-বোনরা করেছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
আন্তর্জাতিক হকিতে বাংলাদেশের যে কজন উজ্জ্বল তারকা রয়েছেন, তাদের মধ্যে জিমি অন্যতম। এশিয়ান গেমস বড় মঞ্চে। সেখানে জিমির বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া এবং চূড়ান্ত দলে জায়গা নিয়ে কথা হয় জিমির সঙ্গে। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমি এখন নিজেকে প্রমাণ দিতে পারব। ফিটনেসসহ সব ধরনের পরীক্ষা দিতে আমি প্রস্তুত। এখন কোচ যদি আমাকে মনে করেন, দলে প্রয়োজন তা হলে নেবেন, প্রয়োজন না হলে নেবেন না।
এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে এশিয়ান গেমসে খেলাটা আমার জন্য স্বপ্নের মতো। আমি প্রমাণ দিয়েই সেখানে খেলতে চাই। দেশের জন্য পূর্বে যেমন মন প্রাণ ঢেলে খেলেছি, সামনে খেলতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।
সময়ের আলো/আআ