এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম কেন

সময়ের আলো ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপ একসময় ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উন্মাদনা- একটি মাসজুড়ে বৈশ্বিক আবেগের বিস্ফোরণ। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় আসন্ন আসরকে ঘিরে যে

2026-06-11T10:58:26+00:00
2026-06-11T10:58:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
খেলা
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম কেন
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম   (ভিজিট : ১৯)
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ একসময় ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উন্মাদনা- একটি মাসজুড়ে বৈশ্বিক আবেগের বিস্ফোরণ। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় আসন্ন আসরকে ঘিরে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সেই পুরোনো ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

স্টেডিয়াম ভিত্তিক প্রস্তুতি, টিকিট বিক্রি, পর্যটন- সবখানেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান স্পষ্ট। হাজার হাজার টিকিট অবিক্রীত, পুনঃবিক্রিতে দাম কমে গেছে, এমনকি কিছু শহরে প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর ভিড়ও দেখা যাচ্ছে না। হোটেল শিল্পও যে বড় লাভের আশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। আয়োজক সংস্থা ফিফাকে বুক করা কিছু হোটেলরুম বাতিল করতে হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এই বাস্তবতাকে শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি একটি বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

বিশ্বকাপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম আগ্রহ নতুন কিছু নয়। ফুটবল সেখানে এখনও প্রধান খেলা নয়। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও বৈশ্বিক পর্যায়ে খুব শক্তিশালী নয়। তার ওপর উচ্চ টিকিটমূল্য অনেক দর্শককে মাঠমুখী হতে নিরুৎসাহিত করছে।
আরও পড়ুন

ফলে যে জনসমাগম ও উচ্ছ্বাস সাধারণত বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটি এবার অনেক জায়গায় অনুপস্থিত। কলামের মূল যুক্তি হলো- বিশ্ব ফুটবলে আবেগের কেন্দ্র এখন ধীরে ধীরে ক্লাব ফুটবলে সরে গেছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার মতো প্রতিযোগিতাগুলো সারা বছর ধরে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তারকা খেলোয়াড় নিয়ে এমনভাবে দল গঠন করে যে জাতীয়তার সীমারেখা অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে যায়।

ফলে অনেক সমর্থকের কাছে ক্লাব ফুটবল হয়ে উঠেছে বেশি ‘বাস্তব’, বেশি নিয়মিত এবং বেশি আবেগঘন। একসময় জাতীয় দল ছিল পরিচয়ের সবচেয়ে বড় মঞ্চ- দেশপ্রেম, গর্ব ও রাজনৈতিক আবেগের প্রতিফলন। কিন্তু এখন সেই জায়গায় এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা।

খেলোয়াড়রা সারা বছর ক্লাবে ব্যস্ত থাকেন, জাতীয় দলের সঙ্গে তাদের সময় সীমিত। তাই অনেক দর্শকের কাছে জাতীয় দলের ম্যাচগুলো কিছুটা বিচ্ছিন্ন, কখনও কখনও কৃত্রিমও মনে হয়।

এর বিপরীতে ক্লাব ফুটবল হয়ে উঠেছে ধারাবাহিক গল্পের মতো- যেখানে প্রতিটি সপ্তাহে নতুন নাটক, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

কলামে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের উত্থানও ফুটবলের আবেগকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। একদিকে কট্টর জাতীয়তাবাদের উত্থান, অন্যদিকে বহুজাতিক খেলোয়াড়ে ভরা ক্লাব দল- এই দুই প্রবণতা পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা তৈরি করেছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়রা যখন রাজনৈতিক মন্তব্য করেন, তখন সেটি সমর্থন ও বিরোধিতার তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ফলে ফুটবল আর আগের মতো ‘নিরপেক্ষ আবেগের জায়গা’ হিসেবে থাকছে না।

২০১৫ সালের ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, বিতর্কিত আয়োজক দেশ নির্বাচন এবং সংস্থাটির নেতৃত্ব- সব মিলিয়ে ফিফার প্রতি আস্থাও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাশিয়া, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো আয়োজক নির্বাচন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে, যা বিশ্বকাপের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করেছে। কলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো- এটি শুধু ফুটবলের সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।

বিশ্বায়নের ফলে ক্লাব ফুটবল হয়ে উঠেছে একটি বৈশ্বিক পণ্য। একই ক্লাবের সমর্থক এখন নিউইয়র্ক, লন্ডন বা আফ্রিকার কোনো শহরে একইভাবে পাওয়া যায়। এই ‘বৈশ্বিক পরিচয়’ জাতীয় দলের আবেগকে কিছুটা হলেও দুর্বল করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ হয়তো এখনই তার গুরুত্ব হারাচ্ছে না। তবে আগের মতো একচ্ছত্র আবেগের কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থান বদলে যাচ্ছে।

একসময় যেখানে বিশ্বকাপ ছিল ফুটবলের চূড়ান্ত উৎসব, এখন তা ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক নাটকের মাঝে একটি বড় কিন্তু একমাত্র নয়- এমন একটি পর্বে পরিণত হচ্ছে।

এএডি/


  বিষয়:   বিশ্বকাপ  ফুটবল  মানুষ  আগ্রহ  কম 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: