বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে রেফারিং করার স্বপ্ন ছিল ওমার আব্দুলকাদির আর্তানের। ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি সোমালিয়ার এই রেফারির। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর দেশে ফিরে তিনি পেলেন এক ভিন্ন ধরনের স্বীকৃতি- নায়কের মতো সংবর্ধনা।
৩৪ বছর বয়সী আর্তান আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি হিসেবে ২০২৫ সালে নিজের নাম লেখান। আশা ছিল, তিনি হবেন সোমালিয়ার প্রথম রেফারি যিনি বিশ্বকাপের মূল পর্বে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু গত সপ্তাহে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সেখান থেকেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে যোগসূত্র’ থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
ঘটনার কয়েকদিন পর সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে আসেন আর্তান। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। পতাকা, ব্যানার এবং তার ছবি হাতে সমর্থকেরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
একটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে আর্তানকে কাঁধে তুলে নেন সমর্থকরা। পুরো সময়জুড়ে দর্শকদের স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পরিবেশ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাত নেড়ে দর্শকদের অভিবাদন জানান এবং আবেগঘন মুহূর্তে ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দেন।
দেশে ফিরে আর্তান বলেন, ‘পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কিছু করার ছিল না। যা হয়েছে, তা হয়েছে- এটা নিয়তি। ফিফা আমাকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তরুণদের বলতে চাই, দেশের ওপর আশা হারানো যাবে না। আমি এখন আমার দেশে আছি, অন্য কোথাও থাকতে চাই না।’
ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও সোমালিয়ার মানুষের চোখে আর্তানের মর্যাদা একটুও কমেনি।
এক তরুণ সমর্থক বলেন, ‘তিনি যে পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ব্যর্থতা নয়, তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন।’
সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামজা আবদি বারে আর্তানকে ‘লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আর্তান শুধু ফুটবলকে নয়, বরং স্বপ্ন দেখতে সাহসী একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তার মতে, এই রেফারি প্রমাণ করেছেন- প্রতিকূলতা থাকলেও অধ্যবসায় মানুষকে ইতিহাসের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। বিশ্বকাপের মাঠে দায়িত্ব পালন করার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও, দেশে ফিরে আর্তান পেয়েছেন এক ভিন্ন অর্জন- জনতার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং জাতীয় নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি।
এএডি/