মূল্যস্ফীতির সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং আয়ের তুলনায় বৃদ্ধি পায় ব্যয়, তখন সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, সঞ্চয়ের সুযোগ কমে আসে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।
নতুন বাজেটে বাড়তি কর, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে। বিশেষত সমাজের এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যারা অভাব-অনটনের সময়েও আত্মসম্মানবোধের কারণে কারও কাছে সাহায্যের চায় না। ফলে তাদের কষ্ট দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবে তারা অর্থনৈতিক সংকটের ভার বহন করে।
ইসলাম আত্মমর্যাদাশীল মানুষের প্রতি সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অজ্ঞ লোকেরা সম্ভ্রম ও আত্মমর্যাদার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে, তারা মানুষের কাছে আকুল হয়ে ভিক্ষা চায় না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৩)।
এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে সমাজের প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের খুঁজে বের করে তাদের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং একটি ধর্মীয় কর্তব্যও।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
জাকাত, দান-সদকা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা গড়ে তোলা সম্ভব। কারণ ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকা অবস্থায় নিজের পেট ভরে খাওয়া প্রকৃত মুমিনের আচরণ হতে পারে না।
অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক সহযোগিতাই মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়।
/এসএকে