পরিবারের জন্য অর্থ ব্যয় ইবাদত

আশিকুজ্জামান নাঈম

ইসলাম

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পারিবারিক জীবন দান করেছেন। কয়েকজন সদস্য মিলে একটা পরিবার। পরিবারের সবার ওপর অর্থ উপার্জন আবশ্যক নয়।

2026-08-16T13:19:19+00:00
2026-08-16T13:19:19+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলাম
পরিবারের জন্য অর্থ ব্যয় ইবাদত
আশিকুজ্জামান নাঈম
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৯ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পারিবারিক জীবন দান করেছেন। কয়েকজন সদস্য মিলে একটা পরিবার। পরিবারের সবার ওপর অর্থ উপার্জন আবশ্যক নয়। পরিবারের অর্থ উপার্জনের দায়িত্বটা প্রায় পুরুষেরই নিতে হয়। এ জন্য আমরা এটাকে কেবল দায়িত্বই মনে করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো- পরিবারের জন্য অর্থ ব্যয় করাও ইবাদত। ব্যক্তির উপার্জিত অর্থ নিজে একা ভোগ না করে তা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন অর্থাৎ অন্যের জন্য সাধ্যমতো ব্যয় করা ইসলামের বিধান। তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নীতির প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে।

নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন স্ত্রী-সন্তানের হক আগে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্ত্রীর ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘বিত্তবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। যার আয় সীমিত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যরে বেশি বোঝা দেন না। আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তি দেবেন’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৭)। 

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমার ওপর তোমার রবের হক আছে, তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে এবং তোমার পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেকেই তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দাও’ (মেশকাত)। 

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে পরিবারের হক আদায়ের জন্য। মুয়াবিয়া ইবনে হিদায়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিগ্যেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কারও ওপর তার স্ত্রীর কি অধিকার আছে? রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি যখন খাবে তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরিধান করবে তাকেও পরিধান করাবে। মুখে মারবে না, গালি দেবে না এবং বাড়ি ছাড়া করবে না’ (আবু দাউদ : ২১৪২)। 

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের কাউকে যখন আল্লাহ কল্যাণ (সম্পদ) দান করেন তখন সে নিজের এবং তার পরিবারস্থ লোকজনকে দিয়ে (ব্যয়) শুরু করবে।’ (মুসলিম : ১৮২২)।

কারও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে যদি তার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করতে না চায় কিংবা অতিরিক্ত কৃপণতা করে তা হলে সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে। অন্যত্র তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির পাপের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে যাদের খোরপোষ তার দায়িত্ব সে তাদের খোরপোষ আটকিয়ে রাখবে’ (মুসলিম : ৯৯৬)। 

এ ধরনের লোককে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিগ্যেস করবেন। সে তা সংরক্ষণ করেছে, না তাতে অবহেলা করেছে? এমনকি পুরুষকে তার স্ত্রী (পরিবার-পরিজন) সম্পর্কে জিগ্যেস করা হবে।’ (নাসাঈ : ৯১৭৪)।


পরিবারের জন্য খরচকৃত অর্থের সওয়াব আল্লাহর রাস্তায় দান করার চেয়েও বেশি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘একটি দিনার তুমি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করলে, একটি দিনার গোলাম আজাদ করার জন্য ব্যয় করলে, একটি দিনার মিসকিনকে দান করলে এবং আরেকটি দিনার তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করলে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সওয়াব ও প্রতিদান সেই দিনারটির, যা তুমি তোমার পরিবারের পেছনে ব্যয় করেছ’ (মুসলিম : ৯৯৫)। 

অন্য হাদিসে এসেছে পরিবারের জন্য খরচ করলে সদকার সওয়াব মিলে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য পুণ্যের আশায় যখন ব্যয় করে তখন সেটা তার জন্য সদকা হয়ে যায়’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫)। 

এসব আলোচনা থেকে বোঝা যায় পরিবারের হক আদায়ে অর্থ ব্যয় করা ইবাদত। পক্ষান্তরে তাদের হক আদায় না করাও গুনাহের কাজ। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরিবারের সবার হক আদায় করার তওফিক দান করুন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, দোহা, কাতার

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   পরিবার  অর্থ  ব্যয়  ইবাদত 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: