যা ছিল একসময় স্বপ্ন, সেটিই এখন বাস্তবে রূপ পেল। ২১ বছর অজেয় থাকার অবসান ঘটল ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৫ সালে কার্ডিফ জয়ের পর শুধু অপেক্ষায় ছিল টাইগাররা, আবার সেই উচ্ছ্বাস-উৎসবে মাতবে কবে! অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে মিরপুরে।
মঙ্গলবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর, গতকাল সিরিজটাই নিজেদের করে ফেললেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচটি ডিএলএস ম্যাথডে ৩৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের জয় সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল দলকে। সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে। এবার পালা হোয়াইটওয়াশে।
অস্ট্রেলিয়া নামটা একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে উচ্চারিত হতো এক ধরনের নীরব শ্রদ্ধার সঙ্গে, কখনো বা অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাসে। সেই নামের বিপরীতে এখন লেখা হচ্ছে জয়, লেখা হচ্ছে সিরিজ জয়। যে জয় কেবল স্কোর বোর্ডের সংখ্যা নয়, বরং সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক জাতির ক্রিকেট-আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা। মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারানোর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক উচ্চতায়, যেখানে আর বিস্ময় নয়, বরং বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় সত্য।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে শোনা গেল সেই অনুভূতি, যা সংখ্যার বাইরে গিয়ে ছুঁয়ে যায় দলের ভেতরের গল্প, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগকে। যে দলকে একসময় হারানো ছিল অবিশ্বাস্য এক কল্পনা, সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই এখন বলে-কয়ে জয় তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ। শুধু এক ম্যাচে জিতেই শেষ হচ্ছে না, সিরিজ জয়ও লিখে ফেলেছে বাংলাদেশ, তাও আবার তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে। ম্যাচ শেষে নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে ধরা পড়ল সেই অর্জনের গভীরতা, আবেগ আর দলের ভেতরের গল্প।
এমন দিনে জয়ের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শান্ত বললেন, ‘এই জয়ের গুরুত্ব অনেক, কিন্তু আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না- দারুণ এক অনুভূতি। এই সিরিজে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে অনেক সাহস দেখিয়েছি। গত কয়েক মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি এবং নিজেদের খেলার উন্নতি করতে চেয়েছিলাম। শেষ দুটি ম্যাচে দল যেভাবে খেলেছে তা সত্যিই অসাধারণ, আর এই দলের একজন অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।’
শান্তর ভাষ্যে, ‘আমরা একটা দল হিসেবে খেলতে চেয়েছিলাম এবং আমাদের প্রতিটি জায়গায় উন্নত করতে চেয়েছিলাম। প্রত্যেকেই প্রতিটি ম্যাচে অবদান রাখতে চেয়েছিল- সেটা ফিল্ডিং হতে পারে, আবার বোলিংও হতে পারে। আমরা ঠিক এভাবেই খেলতে চেয়েছিলাম। দলের ছেলেরা দারুণ মানসিকতা দেখিয়েছে; বিশেষ করে যারা খেলেনি, ডাগআউটে বসে ছিল, তারাও অনেক সাহায্য করেছে।
এই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক ছিল একক নায়কের ওপর নির্ভর না করা। শান্তর ভাষায় সেটাই উঠে এসেছে পরিষ্কারভাবে- দলীয় মানসিকতা, অংশগ্রহণ আর দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সংস্কৃতি। শেষ ম্যাচ নিয়েও তিনি থাকলেন একইভাবে পরিণত ও বাস্তববাদী, ‘ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গত দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, তা ধরে রেখে আবারও ভালো ক্রিকেট খেলা এবং লড়াই করাটা জরুরি। আমরা শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ জয় তাই শুধু একটি ফলাফল নয়। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানসিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আত্মবিশ্বাস এখন আর সীমিত নয়, বরং ক্রমশ বিস্তৃত এক বাস্তবতা।