বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল নয়; এটি স্মৃতি, আবেগ, অপেক্ষা আর অসমাপ্ত গল্পের এক বিশাল মঞ্চ। প্রতি চার বছর পরপর এই মঞ্চে কিছু দল ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে নামে, কিছু তারকা নামেন নিজেদের সাফল্যকে আরেকটু উঁচুতে তুলতে।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে যে গল্প তৈরি হয়েছে, সেটি হয়তো অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।
একজন বিশ্বকাপজয়ী সম্রাট, যিনি নিজের রাজত্বকে আরও দীর্ঘ করতে চান। আরেকজন প্রতিভাবান রাজপুত্র, যিনি এখনও খুঁজছেন সেই মুকুট, যা তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। চার বছর আগে কাতারে মেসির হাতে ওঠা ট্রফি শুধু একটি শিরোপা ছিল না, সেটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, শিরোপা জয়ের পরও আর্জেন্টিনার ক্ষুধা কমেনি। বরং দলটি এখন আরও পরিণত, আরও আত্মবিশ্বাসী।
কোচ লিওনেল স্কালোনির দলকে এখন আর এককভাবে মেসিনির্ভর বলা যায় না। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো দি পলের মতো খেলোয়াড়রা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন। সামনে লাওতারো মার্তিনেজ আছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এখনও প্রতিপক্ষের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। তবু আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তির নাম এখনও হয়তো মেসি। বয়স ৩৯ হলেও এখনও তিনি সেই খেলোয়াড় যিনি এক মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বিশ্বকাপের আগে ইন্টার মিয়ামির হয়ে পারফরম্যান্স করে হয়তো জানান দিলেন শেষ কথা বলা হয়নি এখনও। আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগও রয়েছে।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশনেই এবার মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তারা। অন্যদিকে ব্রাজিলের গল্পটা এখন বেদনার। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটির বিশ্বকাপ খরা ২৪ বছরের।
২০০২ সালে রোনালদো-রিভালদো-রোনালদিনহোর হাত ধরে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর আর কখনো ট্রফি ছুঁতে পারেনি সেলেসাওরা। এর মধ্যে এসেছে হতাশা, ব্যর্থতা, স্বপ্নভঙ্গের অসংখ্য রাত।
ট্রফিহীন ব্রাজিলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর দায়িত্ব এবার তুলে দেওয়া হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির হাতে। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা জেতা ইতালিয়ান কোচকে ব্রাজিল দেখছে ত্রাণকর্তা হিসেবে।