সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, নতুন জাতীয় বাজেট জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশি সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রভাবে দেশের সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ যদি মানুষকে প্রতারিত বা হয়রানি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন, জিআর চাল এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, সহকারী সচিব হরে কৃষ্ণ অধিকারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাব্বির হাসান, শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন টুকু, সাবেক সদস্য সচিব মুন্সি মুনিরুজ্জামান চকলেট, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মুন্সী নয়নুজ্জামান নয়ন, মন্ত্রীর একান্ত সহকারী ফারদিন হাসান সুমনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।
একই দিনে শালিখা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এও অংশ নেন তিনি। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুৎ কুমার। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হোসনা মোবারক, একাডেমিক সুপারভাইজার বিপ্লব কুমার রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং নতুন উদ্ভাবন দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর।
এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস), এসইডিপি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সুধীজন অংশ নেন।
আরবিএন