মাদারীপুরের শিবচরে বাড়িতে রান্না করা খাবার খেয়ে একই পরিবারের ১১ সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ৬ জন শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে ৪ জনকে রোববার (১৬ আগস্ট) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকালে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খেতে বসেন। খাবার খাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে থাকেন। কারো নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না, এমনকি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না তারা।
এ সময় কাজের কারণে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ। তিনি কয়েকবার বাড়িতে ফোন করেও কারো সাড়া পাননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরে আশপাশের বাড়িতে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন। বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে নয়ন শেখ ও তার আত্মীয়স্বজনেরা বাড়িতে আসেন। এদিকে, অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলার মধ্যেই রাতে বাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ নিয়ে একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭), তার স্বামী শহিদুল শিকদার, সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২), তার স্বামী আসাদ মোড়ল, নয়ন শেখের ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪), নয়ন শেখ (৫৫) ও আমেনা বেগম (৫০)। পরিবারের আরও ২ সদস্যের নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, ‘সকালে রান্না করে সবাইকে নিয়ে খেতে বসি। খাওয়ার একপর্যায়ে আমরা সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমাদের নড়াচড়া করার মতো শক্তি ছিল না। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। ঘরের সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে আমার ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু রাতে বাবা ও ফুপুও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
অসুস্থ মনিকা আক্তার বলেন, ‘আমাদের খাবারে বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিয়ে থাকতে পারে। তা না হলে, একই পরিবারের এতজন এভাবে অসুস্থ হওয়ার কারণ কী, বুঝতে পারছি না।’
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
সময়ের আলো/মহু