৫ আগস্টের পর বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষপদে আবার জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম। গত ১৬ বছরে দলীয় প্রভাবের কারণে এর কার্যক্রম তলানিতে নেমেছিল। বিনা মূল্যে বাড়ির দুয়ারে বসে বিরোধের ন্যায়ভিক্তিক বিচার পেয়ে খুশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। জেলা প্রশাসন এই প্রক্রিয়াকে আরও প্রাণবন্ত করার কথা বলেছে। গত এক বছরে বরিশালের ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে ১৯৮২টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত এসব অভিযোগের মধ্যে নিষ্পিতিকৃত মামলার হার ৯৬ ভাগ।
বাস্তবায়িত সিদ্ধান্তের হার ৯৭ দশমিক ৮৬, ক্ষতিপূরণ আদায় ২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৫ টাকা। এক বছরে মামলার জন্য আবেদন করেছে ৪৪০ জন নারী। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে ৫৪টি মামলা।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক কমল ব্যানার্জি তাদের দেওয়া তথ্যে জানান, বরিশালের ১০ উপজেলার মধ্যে বানারীপাড়া উপজেলায় ২.৬ শতাংশ, হিজলায় ৩.০, মুলাদীতে ৩.০, বরিশাল সদরে ৩.৫, মেহেন্দিগঞ্জে ৩.৬, গৌরনদীতে ৩.৭, আগৈলঝাড়ায় ৪.০, বাকেরগঞ্জে ৪.১, বাবুগঞ্জে ৪.৩, উজিরপুরে ৫.৫ শতাংশ করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে, চেয়ারম্যান মেম্বর, হিসাব সহকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে এখনও অনেকে জানে না। তাই এই সম্পর্কে মানুষকে আরও জানাতে বেশি বেশি প্রচার-প্রচারণা দরকার। এতে করে গ্রাম আদালত আরও ত্বরান্বিত হবে। আমরা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রচার-প্রচারণার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্যাম্প করে প্রচার আরও বাড়ানো হবে। যেসব এলাকায় মামলা বেশি সেসব এলাকায় আমাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে আসা চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের টুমচার এলাকার মোশারফ বলেন, আমার একই এলাকার খালেক খন্দকারের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা ছিল। গ্রাম আদালতে আসার পর বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
হিজলার মেমানিয়া উইনিয়নের মোর্শেদা বেগম বলেন, ২১ শতাংশ জমির বিরোধ নিয়ে আমি তিন মাস আগে এখানে অভিযোগ করি। আমাদের মধ্যে সুষ্ঠু ফয়সালা করে দেওয়া হয়েছে। এমন রায় পেয়ে আমি খুশি। আসলে স্থানীয় বিরোধে আমরা প্রথমে গ্রাম আদালতে এসে বিচারও এখন ভালো পাচ্ছি।
এএডি/