চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিশ্বাস— প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের বিবরণ ইরানিরাই সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেছে, যার সাথে প্রকৃত চুক্তির কোনো মিল নেই। ইরানিদের অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অবিশ্বস্ত জাতি হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, তাদের সাথে ব্যবসা করা বা কোনো চুক্তিতে যাওয়া কঠিন।
তবে তেহরানের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেও এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পর্দার আড়ালে চরম উদগ্রীব ও মরিয়া হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রতিদিন একটু একটু করে অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে আলোর মুখ দেখছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চুক্তি সই হলেই তেহরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবে না। তার আগে ইরানকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য ও শর্ত পূরণ করতে হবে। আমেরিকার মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি মূলত তারই কাছাকাছি। তবে এবার মার্কিন প্রশাসন শব্দের স্পষ্টতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। চুক্তির ধারায় এমন কোনো অস্পষ্টতা বা ফাঁকফোকর রাখা হচ্ছে না, যা ব্যবহার করে ইরান পরবর্তীতে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার থেকে পিছলে যাওয়ার সুযোগ পায়। ওয়াশিংটন নিশ্চিত করতে চায় যে, এবারের চুক্তির প্রতিটি শর্ত তেহরান অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য থাকবে।
/কহু