সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) মোংলা থানায় মামলাটি দায়ের করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মনিরঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের হাড়বাড়িয়া ভাসমান স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে চিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান শেখসহ মোট ৬ জনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বনদস্যু ও চোরাকারবারিদের পরিকল্পনায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, জয়মনিরঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু, চোরাকারবারি, বিষ দিয়ে মাছ শিকারকারী এবং বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারকারীদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় ভাসমান স্টেশন স্থাপনের পর অপরাধীদের অস্ত্র সরবরাহ, লজিস্টিক সহায়তা এবং চোরাচালানের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে দাবি করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জয়মনির শ্যালার খালে অবস্থিত স্টেশনে হামলা চালায় এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষে তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।
তবে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিরাজ শেখ নামে এক যুবক কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার স্বজনরা কোস্ট গার্ডের কাছে ওই যুবকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে জয়মনি এলাকার ৪৪ জনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মুক্তা বেগম, লিজা ইসলাম, তাসলিমা বেগম, সুলতান শেখ, মহারাজ খান ও মো. শাহজালাল ফরাজী। তাদের সকলের বাড়ি মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকায়।
শনিবার সকালে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকার অধিকাংশ পুরুষ সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলা দায়েরের পর পুরো জয়মনি এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কোস্ট গার্ডের সরবরাহ করা ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
/এসএকে