মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্যের বরাদ্দ দেওয়া ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ৩ নম্বর কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইনের বিরুদ্ধে।
চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ও স্থানীয় জামায়াত নেতা এই চেয়ারম্যান কোনো প্রকার এস্টিমেট (ব্যয় প্রাক্কলন) ছাড়াই এবং বিল উত্তোলনের আগেই তড়িঘড়ি করে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এস্টিমেট ছাড়া ও বিল তোলার আগে কাজ করার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য নাজমুল হুদা তার নির্বাচনি এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য টিআর বাবদ ৩০ লাখ টাকা, কাবিটা বাবদ ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এমপির আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে আলম হুসাইন ক্ষমতার দাপটে তার নিজ গ্রামেই তিনটি কাবিখা প্রকল্পের জন্য ১৩ মেট্রিক টন চাল ও ৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ নেন। তবে তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি স্থানেই আগের পুরাতন ইট তুলে পুনরায় একই জায়গায় এইচবিবি করণের কাজ করা হয়েছে।
হাড়াভাঙ্গা মেইন রাস্তা থেকে ঈদগাহ অভিমুখী রাস্তা। সংসদ সদস্যের তালিকার তালিকা অনুযায়ী, এই রাস্তায় এইচবিবি করণ ও মাটি ভরাটের জন্য ৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ২০২৩ সালে নির্মিত ফ্ল্যাট সোলিংয়ের পুরাতন ইট তুলেই সেখানে নতুন করে এইচবিবি করণের কাজ করেছেন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, যার কোনো সরকারি এস্টিমেট নেওয়া হয়নি।
মোল্লাপাড়ার ইসমাইলের বাড়ি থেকে আজিজুলের বাড়ি অভিমুখী রাস্তা। এই প্রকল্পে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হলেও মাত্র ৫৫ ফিট রাস্তা নির্মাণ করে কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছা. নারগীস খাতুন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
হাড়াভাঙ্গা কবরস্থান থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক অভিমুখী রাস্তা। এখানে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে পূর্বের এইচবিবি রাস্তার পুরাতন ইট তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য বরাদ্দেও ভালো কাজ সম্ভব হলেও চেয়ারম্যান ক্ষমতার দাপটে অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম কিস্তির চাল সরবরাহের জন্য গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত ১ জুনে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু চাল উত্তোলনের সরকারি আদেশ হওয়ার অন্তত ১০ দিন আগেই দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ করে ফেলা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের সভাপতি ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মোছা. নারগীস খাতুন জানান, রাস্তা কী দিয়ে এবং কীভাবে তৈরি হয়েছে তা তিনি জানেন না। শাহিন মেম্বার আর চেয়ারম্যানই এটি ভালো বলতে পারবেন। প্রথম কিস্তির কোনো বিলও তিনি এখনো তোলেননি।
অভিযোগের বিষয়ে কাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ করাই যায়। বছরে মাত্র দুই দিন মানুষ ঈদগাহে যায়, তাই বিল হওয়ার আগেই কাজ সম্পন্ন করেছি। আগের ফ্ল্যাট সোলিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি তুলে নতুন করে করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফ হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন। বাকি প্রকল্পগুলোও যাচাই করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই