সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহামেদ আব্দুল্লাহি (যিনি চিরো নামে সমধিক পরিচিত) প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বঘোষিত এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর, এটিই হবে সোমালিল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম তেল আবিব সফর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরায়েলের পতাকার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী মঙ্গলবারই (১৬ জুন) সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এডেন উপসাগরের তীরে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবং এই অঞ্চলে তেহরানের মিত্রদের মোকাবিলা করতেই মূলত সোমালিল্যান্ডকে তড়িঘড়ি করে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে ওই কৌশলগত অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় তেল আবিব।
এডেন উপসাগরের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত ইয়েমেনের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুথিরা। হুথিদের এই আগ্রাসী ভূমিকার পর লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমালিল্যান্ডের সাথে কৌশলগত জোট গঠন ইসরায়েলের জন্য এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সম্ভাব্য এই উচ্চ-পর্যায়ের সফর নিয়ে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা মন্তব্য করা হয়নি।
/কহু