ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আনুষ্ঠানিক নীতি স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যই ওয়াশিংটনের অফিশিয়াল অবস্থান।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তি স্বাক্ষর পর্বটি মূলত ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এরপর পারমাণবিক চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগামী সপ্তাহ থেকে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমঝোতাকে তার প্রশাসনের একটি বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা চিরতরে বন্ধ হবে এবং ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চাইছে না।
এই সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে এমন এক দূরদর্শী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা তার পূর্বসূরি অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট করতে পারেননি। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ওবামা আমলের চুক্তিটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ— যা থেকে ট্রাম্প পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তার বিপরীতে এবারের চুক্তিটি অনেক বেশি কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, এই সমঝোতা স্মারক এবং চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিটি সম্পাদিত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হলে, তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বার্থেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জেডি