মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি আবার চালু হতে পারে এমন খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৩২ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমেছে। ফলে তেলের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রোববারের মধ্যেই সই হতে পারে। এ জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আলোচনার বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তনও হতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিমান হামলা স্থগিত করেছেন।
একই সঙ্গে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি হলেও তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছু সময় লাগতে পারে। কারণ বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মজুত তুলনামূলক কম।
নেদারল্যান্ডসের ব্যাংক আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে এবং চাহিদা বাড়তে থাকলে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৭ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে এবং চাহিদা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকও ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটি এখন দৈনিক ৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। তবে ২০২৭ সালে চাহিদা আবারও জোরালোভাবে বাড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।
আরবিএন