দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ সেবা চালু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আইসিইউ সেবা চালুর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলার সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল। এরপর আরও ৩ কোটি টাকার আইসিইউসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। অথচ লোকবল সংকটের কারণে কোনো রোগীকে আইসিইউর সেবা দেওয়া হয়নি। তবুও মেলেনি কোন সেবাই। এতে করে মাদারীপুর মানুষজনকে একটু অসুস্থ হলেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। এতে করে জেলার অসহায় ও গরীব মানুষগুলোকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া একাধিকবার সংবাদ প্রচার করে। পরে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে এটি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হয় কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে আইসিইউর সেবা চালু করা হয়। এতে করে মাদারীপুরবাসী খুব খুশি। মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার সাদেক আহম্মেদ বলেন, আমাদের র্দীঘদিনের দাবি ছিলো আইসিইউটি চালু করার। আজ তা হয়েছে। এতে আমরা অনেক খুশি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অটোরিকশা চালক রাজ্জাক হোসেন বলেন, আমরা গরীব মানুষ ঢাকা বা ফরিদপুর গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারি না। তাই আইসিইউ চালু হওয়ায় আমাদের মতো গরীব ও অসহায় মানুষের বেশি উপকার হবে।
মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য এই আইসিইউ সেবা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরবর্তীতে অন্য রোগীদেরও দেওয়া হবে এই আইসিইউ সেবা।
তিনি আরও বলেন, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যা থাকলেও ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর করার জন্য জাতীয় সংসদেও আলোচনা করা হয়েছে। এটি পরিপূর্ণ চালু হলে সেবার মান বাড়বে এবং জেলাবাসী উপকৃত হবে।
সময়ের আলো/জোই