বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশে যা ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার করেছে

2026-06-14T20:30:26+00:00
2026-06-14T20:30:26+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশে যা ছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩০ পিএম 
পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। গত বছরের এপ্রিল মাসে এই নোটিশ জারি করা হয়।

ইন্টারপোলের রেড নোটিসে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওই নোটিস প্রকাশ করা হয় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল। নোটিসের কন্ট্রোল নম্বর এ-৫১৭৪/৪-২০২৫।

সেখানে তাকে ‘ফিউজিটিভ ওয়ান্টেড ফর প্রসিকিউশন’ বা বিচারের জন্য পলাতক আসামি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সতর্কতামূলক অংশে তার নামের পাশে ‘ডেঞ্জারাস’ এবং ‘এস্কেপ রিস্ক’ লেখা রয়েছে।


রেড নোটিসে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে বেনজির ১১ কোটি ৪২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। এর মধ্যে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ গোপনের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়।

এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চলতি বছরের ৩ মে ওই মামলায় অভিযোগ গঠন করে সাবেক আইজিটি বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দেয় ঢাকার একটি আাদলত।

ইন্টারপোলের রেড নোটিসে বলা হয়, তদন্তে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অপরাধের বিষয়ও উঠে এসেছে।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই পরে রেড নোটিস জারি করা হয়।

অবৈধ সম্পদের মামলার পাশাপাশি পাসপোর্ট জালিয়াতির এক মামলাতেও বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।


২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর দায়ের করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারা যুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ডিআইজি, অতিরিক্ত আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি চাকরিজীবী হয়েও বেনজির একাধিকবার নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করেন।

বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়াই আবেদন করে তিনি ‘প্রতারণামূলক’ উপায়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করেন।

বেনজীর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের ওই আদেশে


রেড নোটিশ থাকলে কী হয়
অনেকের মধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ নিয়ে সাধারণভাবে একটি ভুল ধারণা আছে— এটি যেন আন্তর্জাতিক গ্রেফতার পরোয়ানা। বাস্তবে তা নয়। রেড নোটিশ হলো ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর কাছে একটি অনুরোধ, যাতে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আটক করা যায়। এর ভিত্তি হতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা বিচারিক আদেশ।

অর্থাৎ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হওয়া এবং দুবাইয়ে তার গ্রেফতার— দুটি বড় ধাপ পার হয়েছে; কিন্তু তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাতের আদালত।

বাংলাদেশকে এখন প্রমাণ করতে হবে, বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়; এটি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে দেখাতে হবে, বাংলাদেশে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

/কেএইচও

  বিষয়:   বেনজীর  ইন্টারপোল  রেড নোটিশ 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: