ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ। ৭৪ পেরিয়ে ৭৫-এ পা রাখলেন তিনি। ১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়েজ চৌধুরী এবং মা ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির মেয়ে।
শাবানার প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। পরিচালক এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় অভিনেত্রীর নাম রাখা হয় শাবানা। এরপরই তিনি এ নামেই পরিচিতি পান।
১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে যাত্রা শুরু হয় শাবানার। ১৯৬৭ সালে নির্মাতা এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আভিষেক হয়। এতে অভিনেতা নাদিমের বিপরীতে দেখা যায় শাবানাকে।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের অভিনয়জীবনে ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ষাট থেকে নব্বই দশকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়জীবনে নাদিম, রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানার সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শক মাতিয়েছেন। তার সর্বাধিক সিনেমার নায়ক আলমগীর। ১৩০টি চলচ্চিত্রে শাবানা-আলমগীর জুটি হয়ে কাজ করেছেন।
শাবানা অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- অবুঝ মন, ছদ্মবেশী, চৌধুরী বাড়ি, ঝড়ের পাখি, মাটির ঘর, সখী তুমি কার, ছুটির ঘণ্টা, দুই পয়সার আলতা, লালু ভুলু, মা ও ছেলে, নতুন পৃথিবী, স্বামী স্ত্রী, লালু মাস্তান, ব্যথার দান, সত্য মিথ্যা, অচেনা, রংবাজ, মরণের পরে, লক্ষ্মীর সংসার, ঘরের শত্রু, স্বামী কেন আসামি।
ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অভিনয় থেকে হঠাৎ আড়ালে চলে যান শাবানা। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। এরপর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে তার পরিবারের কাছে চলে যান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একবার প্রযোজক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন শাবানা। ২০১৭ সালে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন এই অভিনেত্রী।
শাবানা ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওয়াহিদ সাদিক একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রডাকশন্সের মালিক সাদিক। শাবানা-সাদিক দম্পতির দুই মেয়ে সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন।
সময়ের আলো/জেডি