নিশ্বাসের জন্য এক নিঃশব্দ লড়াই নিয়ে নির্মিত হয়েছে সীমিত দৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’। এতে তুলে ধরা হয়েছে করোনা মহামারিতে স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা এবং বায়ুদূষণের চরম বাস্তবতা। ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ পরিচালিত ও মাহফুজ নাজিম মাপেল প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে।
প্রযোজকের বাবা করোনায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ার করুণ অভিজ্ঞতা থেকেই ছবিটির মূল ভাবনা তৈরি হয়। প্রযোজক মাপেল জানান, এই সিনেমাটি তার কাছে বাবাকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারার ঋণ শোধের একটি চেষ্টা।
তিনি বলেন, নিশ্বাস কত দামি, আমি সেটা অনুধাবন করেছি হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাবা দশ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন; শেষে আমার চোখের সামনেই চলে গেলেন। একজন মানুষ সামান্য একটু বাতাসের জন্য লড়ছে, এর চেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। মৃত্যু এত কাছ থেকে সেই প্রথম দেখা। চলচ্চিত্রে তন্বী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ এবং তূর্য চরিত্রে দেখা যাবে ইমতিয়াজ বর্ষণকে। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নওশাবা বলেন, কাজটির মাধ্যমে তিনি নতুন করে জীবন উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
অন্যদিকে বর্ষণ মনে করেন, উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধনের ফলে ভবিষ্যতে যে ভয়াবহ অক্সিজেন সংকট দেখা দেবে, এটি তারই এক কাব্যিক দৃশ্যকাব্য। পরিচালক ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ জানান, লম্বা স্থির ফ্রেম, কুয়াশাচ্ছন্ন বিমূর্ত দৃশ্যপট এবং সংলাপের চেয়ে নিশ্বাসের শব্দের ওপর বেশি ভরসা রেখে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এটি মূলত বেঁচে থাকার টানাপোড়েন ও সম্পর্কের আবেগঘন গল্প।
সময়ের আলো/আআ