ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় এক টন সরকারি বইসহ একটি পিকআপ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. জাকারিয়াকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার হাফেজ মাওলানা ইউনুস আলী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরাফাত সিদ্দিকী সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ এবং চালককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক পিকআপ চালক জাকারিয়া বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে উপজেলার বীর রামপুর গফাকুড়ি মোড়ে ফুলকুড়ি দাখিল মাদরাসার সুপার হাফেজ মাওলানা ইউনুস আলী বিপুল পরিমাণ সরকারি বই একটি পিকআপে তুলে দেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গাড়িটি আটকে দেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনুমানিক এক টন সরকারি বইসহ পিকআপটি জব্দ করে এবং চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, ফুলকুড়ি দাখিল মাদরাসার সুপার একটি পিকআপে সরকারি বই তুলে দিয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে আমাদের অবহিত করেন। পরে বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। এরপর বইবোঝাই পিকআপসহ চালককে আটক করা হয়। তবে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য বইবোঝাই পিকআপসহ চালককে থানায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুলকুড়ি দাখিল মাদরাসার সুপার ইউনুস আলী বইগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে পিকআপে তুলে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি। মামলা দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বইবোঝাই পিকআপ ও এর চালককে থানায় হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই