গত এক বছরে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সময়ে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ, মাদকসহ বিভিন্ন মামলার ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। সংস্থাটির মিডিয়া সেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ মে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৪ মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৭১টি মামলায় ১৬৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা রয়েছেন।
একই সময়ে বিভিন্ন অভিযানে অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের দাবি, অপহরণকারীদের কৌশলে পরাস্ত করে ভুক্তভোগীদের জীবনের ঝুঁকি এড়িয়েই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গত ১৪ মাসের অভিযানে ২ লাখ ৪ হাজার ৩১ পিস ইয়াবা, একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকিটকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা, মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩৭টি হারানো বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি (এফডিএমএন) কক্সবাজারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ৮ এপিবিএনের গোয়েন্দা দল ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করেছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সময়ের আলো/এসএকে