চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম। তিনি বলেছেন, ‘মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের স্থান হবে কারাগার। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’
রোববার (২ আগস্ট) সীতাকুণ্ড মডেল থানার বার্ষিক পরিদর্শন শেষে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড মডেল থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার মান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের জনগণকে দ্রুত, আন্তরিক ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে ভাটেরখীল এলাকায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক কারবার এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার নানা অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরেন।
অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার পর পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রতিটি বিষয় আইনানুগভাবে তদন্ত করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি কিংবা যেকোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে পরিচয়-প্রভাব নির্বিশেষে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাই মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা যেকোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশের জরুরি সেবায় তথ্য দিতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম, গণমাধ্যম কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সময়ের আলো/মহু