রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ সৌদি আরব প্রবাসী ইমনের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। এক গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. মো. সুলতান মাহমুদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে(আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সার্জন জানান, ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামাকটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগনি তানিয়া আক্তার (২০)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধরা সবাই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন। আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত। ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
হাসপাতালে দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার তর্কাতর্কি হয়। তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন গতকালই দেশে ফিরে আসেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন আমিও মরব, তোদেরকেও মারব। এই কথা বলেই তিনি নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদের মধ্যে ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইমন, তানিয়া, সিদ্দিক ও রাজীবকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু