উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া

সারাদেশ

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কুতুপালংসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলায় তীব্র পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

2026-08-02T23:42:05+00:00
2026-08-02T23:42:05+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম 
উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ। ছবি : সময়ের আলো
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কুতুপালংসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলায় তীব্র পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিনের গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় এবং জলাশয়ের ধারে ফেলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে উখিয়ায় আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কুতুপালং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত স্থান গত রবিবার (২ আগস্ট) পরিদর্শন করেন উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উখিয়ার পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাজার, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ময়লার স্তূপ জমে থাকে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য নালা-নর্দমায় ছড়িয়ে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে, আর শুষ্ক মৌসুমে দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশ, বাজার এবং স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথজুড়ে ময়লার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একসময় উখিয়ার নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গর্বের বিষয় থাকলেও আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে।


কুতুপালং এলাকার আরেক বাসিন্দা মুজিব জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য বিভিন্ন সময়ে আশপাশের কৃষিজমি ও খালে-নালায় এসে পড়ায় জমির উর্বরতা ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব রোধে তিনি সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, উখিয়ার মতো সংবেদনশীল এলাকায় কেবল একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা। গৃহস্থালি, বাজার ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদন এবং অবশিষ্ট বর্জ্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই স্থানীয় কৃষিজমি, খাল-বিল বা বসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। ক্যাম্পভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ, নিরাপদ পরিবহন, আধুনিক ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও কৃষিজমি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

এ ছাড়াও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   উখিয়ায  অনিয়ন্ত্রিত  বর্জ্যে  পরিবেশ বিপর্যয়  সমন্বিত ব্যবস্থাপনা  নতুন উদ্যোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: