রামেকে সিরিঞ্জ সংকট, খোলা বাজারে দাম চড়া

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

চিকিৎসা সেবায় উত্তরবঙ্গবাসীর ভরসার ঠিকানা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পর চাপ

2026-09-18T19:46:23+00:00
2026-09-18T19:46:23+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
রামেকে সিরিঞ্জ সংকট, খোলা বাজারে দাম চড়া
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চিকিৎসা সেবায় উত্তরবঙ্গবাসীর ভরসার ঠিকানা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পর চাপ পড়ছে বরাদ্দকৃত চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর। মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার সিরিঞ্জের সংকট। ফলে বিপাকে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা।

হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সিরিঞ্জের মতো একটি অতি সাধারণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হওয়ায় নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসা খরচ বেড়ে গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেড় হাজার শয্যার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে অন্তত চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া বহির্বিভাগেও প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত শয্যাসংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগীর এই অতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতালের বরাদ্দকৃত চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর মারাত্মক চাপ পড়ছে। অতিরিক্ত এই রোগীর চাপে স্বাভাবিকভাবেই মজুদে টান পড়ছে এবং চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে কেবল ৫ সিসির সিরিঞ্জ লাগে প্রায় ১ লাখ পিস। এছাড়া ৩ সিসি এবং ১০ সিসির সিরিঞ্জের প্রয়োজন হয় আরও প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ করে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ সিরিঞ্জের বিশাল চাহিদা রয়েছে এই হাসপাতালে। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরের শুরুতে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এবং মজুদের পরিমাণ ফুরিয়ে আসায় এই ঘাটতি আকার ধারণ করেছে।


হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন বা ইনজেকশনের স্লিপ লিখে দিলেই ওয়ার্ড বা নার্সিং স্টেশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতালে সিরিঞ্জ সরবরাহ নেই, বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে।

রামেক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন সুজন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় প্রতিদিন একাধিক সিরিঞ্জ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষ কীভাবে প্রতিদিন বাড়তি টাকা দিয়ে ওষুধ আর সিরিঞ্জ কিনবো? হাসপাতালে দ্রুত সরকারি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসায় একটু দেরি হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এ সকল সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন।

রহমত আলী নামের আরেকজন বলেন, আমার মেয়ে হাসপাতালে ১৭ দিন থেকে ভর্তি আছে। প্রতিদিন তার চারবার করে ইঞ্জেকশন করা লাগছে। এজন্য প্রতিদিন চারটার করে সিরিঞ্জ কেনা লাগছে। গতকাল যে সিরিঞ্জ নিয়েছে ২০ টাকা সেটা আজ নিচ্ছে ৩০ টাকা। দোকানদাররাও সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কৌশলে।      

শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই নয়, এর বাইরেও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও সিরিঞ্জের এই সংকট আছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব উপজেলা হাসপাতালে সংকট রয়েছে, সেগুলোতে বিকল্প উপায়ে বা অন্য কোনো হাসপাতাল থেকে সাময়িকভাবে এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ মো. শামীম বলেন, সিরিঞ্জ কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী সংকট নয়। মূলত নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় দাপ্তরিক কেনাকাটা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গত বছরের পুরোনো মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার বা আমদানির কিছু জটিলতার প্রভাবও এর পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকায় কখনো কখনো চাহিদার সঠিক পূর্বাভাস বা অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে। রোগীদের জরুরি চিকিৎসা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প উপায়ে দ্রুত অতিরিক্ত সিরিঞ্জ সরবরাহ ও ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   রামেক  সিরিঞ্জ  সিরিঞ্জ সংকট  খোলা বাজার  দাম চড়া  সময়ের আলো  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতাল 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: