বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়ন্ত্রণ ও পুরোনো বিরোধের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রানীচাপুর গ্রাম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া পরে দুদিনের ধারাবাহিক সহিংসতায় একজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে, আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
নিহত শাহ আলমগীর (২৩) রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত আলমগীর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ উভয় পক্ষ আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখোমুখি হয়। পুরো এলাকা এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
দুই দিনের হামলায় অন্তত ২৮ জন আহত হন। অধিকাংশ আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হলেও, গুরুতর আহত আলমগীরসহ ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে আলমগীরকে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।
সংঘর্ষে জড়িত প্রধান দুই পক্ষের নেপথ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যুক্ত রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
খালিয়াজুরী থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন জানান, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই উভয় পক্ষের পৃথক দুটি মামলা (এফআইআর) দায়ের হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/আতা