ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সড়কটি দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তারাবুনিয়া কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মাত্র ১ কিলোমিটারে ২০০২ সালে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাকি ২ কিলোমিটার অংশ আজও কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বক্তারা আরও জানান, সড়কটিতে তিনটি সাঁকো ও আটটি কালভার্ট রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি কালভার্ট বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয়দের দৈনন্দিন ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এই সড়কের ওপর নির্ভর করে রয়েছে ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৮০ নম্বর দক্ষিণ তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘ দুই যুগেও সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।
বেহাল সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। রাজাপুরের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী কাউখালী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষও রাজাপুর ও ভাণ্ডারিয়া যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাজী, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু, বিএনপির সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল ইসলাম, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আতিকুর রহমান, ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্লাত হোসেন এবং স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মন্ডল জানান, উপজেলার বেশ কিছু সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বেহাল সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।
সময়ের আলো/জোই