‘ব্লু ইকোনমি’তে অপার সম্ভাবনার হাতছানি সীতাকুণ্ড উপকূলে

মেজবাহ উদ্দীন খালেদ, সীতাকুণ্ড

সারাদেশ

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ও প্রভাবশালী ধারণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতি। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা

2026-06-15T11:29:42+00:00
2026-06-15T11:29:42+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সারাদেশ
‘ব্লু ইকোনমি’তে অপার সম্ভাবনার হাতছানি সীতাকুণ্ড উপকূলে
মেজবাহ উদ্দীন খালেদ, সীতাকুণ্ড
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ এএম   (ভিজিট : ৪৫)
চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী। ছবি : সময়ের আলো
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ও প্রভাবশালী ধারণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতি। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করে সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহারের এই আন্তর্জাতিক রেসে এবার নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা এই শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা ১২৪টি শিপইয়ার্ডকে পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে, শক্তিশালী হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান।

সম্প্রতি সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলে নবনির্মিত ‘সাগরিকা গ্রিন শিপইয়ার্ড’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী শিপ ব্রেকিং শিল্পের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, সীতাকুণ্ডের ১২৪টি শিপইয়ার্ড দেশের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৫টি ইয়ার্ডকে ‘গ্রিন শিপইয়ার্ডে’ রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতোমধ্যে ২৪টি ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও হংকং কনভেনশনের শর্ত পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও ধাপে ধাপে সব ইয়ার্ডকে পরিবেশবান্ধব আধুনিক কাঠামোর আওতায় আনা গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হবে।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে সমুদ্রকে ঘিরে ৩ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের ১৫ শতাংশ আমিষের জোগান, ৩০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল এবং ৮০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য সাগরের ওপর নির্ভরশীল।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় দেশের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৫ সালেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্রের অবদান ছিল প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশি মাছ শিকার এবং ৬০ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জড়িত। শুধুমাত্র ইলিশকে কেন্দ্র করেই দেশে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা থেকে বছরে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থ জেনারেট হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনৈতিক বিভাগের (জিইডি) হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন, যার ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ৪২ দশমিক ১ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে আসতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুল অর্থের জোগানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দেশের পুঁজিবাজার। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ‘ব্লু বন্ড’ চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন সম্ভব। এটি একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করবে।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএফসি এবং ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ২০২৩ সালে ইউএনডিপির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে ‘এসডিজি থিম্যাটিক বন্ড’ ও পরিবেশবান্ধব বন্ডের একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ড মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শিপব্রেকিং ও শিপ রিসাইক্লিং খাত দেশের রড, স্টিল ও অবকাঠামো শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে প্রতি বছর আড়াই লাখ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারের নীতিগত সহায়তা, ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ এবং আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ব্লু ইকোনমি  সীতাকুণ্ড  উপকূলে  সামুদ্রিক পরিবেশ  শিপইয়ার্ড 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: