গত শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে দেখি, সে বাড়িতে নেই। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে এলাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর, তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মেয়েকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে দেখি, তার জামাকাপড় নেই। মোবাইল ফোনের কভারে কিছু টাকা লুকিয়ে রেখেছিলাম সেটিও নেই। এভাবে এর আগেও একবার হারিয়ে গিয়েছিল বলে জানান।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট থানা চত্বরে উপরের কথাগুলো সময়ের আলোকে বলছিলেন হারিয়ে যাওয়া মিমের (১২) মা মৌসুমী বেগম। মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মিমের মা এবং ধামইরহাট থানা পুলিশ জানায়, মিম নওগাঁ সদর আলুপট্টি, সুলতানপুর এলাকার মৃত সোহেল রানার মেয়ে। সে রাজশাহী বাগমরা থানার ভবানীগঞ্জের বলিশিং বাজার এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। ওই এলাকার স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। রাজশাহী থেকে ধামইরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকায় কিভাবে এলো এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
মৌসুমী বেগম বলেন, রোববার (২ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধামইরহাট থানা পুলিশ মোবাইল করে জানায়, মিমকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মেয়ের খবর পেয়ে আজ সকালে থানায় এলে পুলিশ মিমকে আমার কাছে হস্তান্তর করেন।
এবিষয়ে ধামইরহাট থানার এসআই আল আমিন বলেন, উপজেলার উমার ইউনিয়নের সীমান্ত বর্তী চন্ডি স্কুলের পাশ থেকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই শিশুকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ধামইরহাট থানায় খবর দেয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে মিমকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক চিকিৎসা শেষে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে মায়ের কাছে মিমকে তুলে দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/জোই