গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় প্রেমের অপবাদ দিয়ে ৮ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার যুবকের বাবা শিবনাথ বাড়ৈ বাদী হয়ে রোববার (২ আগস্ট) রাতে মামলাটি করেন। এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১৪ জন। এরমধ্যে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন, কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় গ্রামের নয়ন গোলদার (৪৫), সাগর রায় ওরফে সম্রাট (১৯), সনাতন সিকদার (২০), মিশন রায় (১৯), জিৎ বিশ্বাস (২০), মন্টু মণ্ডলের ছেলে অনিক মন্ডল (১৯), জয় সিকদার (২২) ও রথিন বিশ্বাসের ছেলে চয়ন বিশ্বাস (২৩)।
প্রধান আসামি নয়ন গোলদারকে রোববার (২ আগস্ট) ভোরে মাদারীপুর জেলার রাজৈর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার রাহুথড় গ্রামের যুবক (১৯) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী কর্ণ কুসুম মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলছাত্রী (১৩) কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত ২৮ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে ওই বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় স্কুলের পাশে গিয়ে স্কুল ছাত্রী ও যুবকটি কথাবার্তা বলছিল। এ সময় আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্কুলছাত্রীকে টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে। ওই যুবককে আটক করে কিল ঘুসি মারে। আসামিরা ওই দুইজনকে অন্যায়ভাবে আটক করে উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বাঁধে। তারপর চড় থাপ্পড়, কিল ঘুসি মেরে অত্যাচার নির্যাতন করে। যুবকের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাদের ছবি একসঙ্গে তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখায়। খবর পেয়ে যুবকের মামা অপূর্ব মন্ডল আসামি নয়ন গোলদারকে চাঁদা হিসাবে ৫ হাজার টাকা দেন। পরে আসামিরা স্কুলছাত্রী ও যুবককে ছেড়ে দেয়।
অন্যদিকে, পরের দিন ২৯ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ও অপমানে স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে হাতিয়াড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভর্তি করা হয়। ৩০ জুলাই তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে ভর্তি করার পর স্বজনরা তাকে রিলিজ করে নিয়ে যায়। ওই শিক্ষার্থী সুস্থ আছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের শিকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও যুবকের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান মামলার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নয়ন গোলদার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান আব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই