লোহাগাড়ায় একই রাতে ৫ ভাইয়ের বসতঘর ডাকাতির পর এবার এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের আলী হোসেন খলিফার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. আবু তাহের বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর চোরের দল তার বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার দৈনন্দিন ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম ও কাপড়চোপড় এবং ১ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। সকালে জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পেয়ে বাড়িতে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার ছেলে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. মনোয়ার হোসেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
এর আগে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গা ঘোনা হাকিমিয়া পাড়ায় এক রাতেই পাঁচ ভাইয়ের বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরা ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ ২ লক্ষ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৮টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন— ওই এলাকার মো. ইলিয়াসের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪১) ও তার চার ভাই মহিউদ্দিন (৩৯), জসিম উদ্দিন (৩৩), জমির উদ্দিন (২৮) ও কাইসার উদ্দিন (২৬)। তারা পাশাপাশি বসতঘরে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘গত রোববার এনজিও থেকে আমরা ঋণ গ্রহণ করি। আমি ৭০ হাজার টাকা এবং আমার ভাই ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে মারধর শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায়। চার ভাইয়ের বাড়িতেও একই কায়দায় জিম্মি করে ৬টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ২টি সাধারণ মোবাইল, নগদ সর্বমোট প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজার ৫শত টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। রাত গভীর হলে আমাদের একটি কক্ষে বন্দি করে তারা চলে যায়।’
এবিয়য়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, এবিষয়ে জেলা ডিবি টিম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ এনিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি পুলিশ শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
সময়ের আলো/আতা