দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে ঘাট এলাকার

2026-06-15T13:05:13+00:00
2026-06-15T13:05:13+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১:০৫ পিএম   (ভিজিট : ২৮)
পদ্মা নদীর নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে ঘাট এলাকার প্রায় ৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ায় নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটগুলোর বিভিন্ন অংশে নদীর তীব্র স্রোতে অনবরত পাড় ভেঙে মাটি বিলীন হচ্ছে। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

ভাঙনের মুখে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী নদী শাসনের ব্যবস্থা না করলে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।

মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, আমাদের বাড়ি নদীর একেবারেই কাছে। রাতে ঘুমাতে গেলেও বুক কাঁপে—এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল! সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত নদী শাসনের মাধ্যমে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাসই শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ে না।


তাজবীন বেগম নামের এক নারী বলেন, সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এখানে থাকা শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মার ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পেছনের অংশেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে ভাঙনের মধ্যেও বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সার্বিক আলোচনা চলছে। আশা করা যাচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ গোয়ালন্দের পদ্মা নদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই দ্রুত স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দৌলতদিয়া এলাকার নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার মতো সাময়িক কাজ না করে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট, সরকারি অবকাঠামো এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা চিরতরে নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   দৌলতদিয়া ফেরিঘাট  পদ্মা  তীব্র ভাঙন  আতঙ্কে  নদীপাড়  মানুষ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: