ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সোমবার ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। একই অঞ্চলে এক সপ্তাহ আগে সংঘটিত আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৫ জন নিহত হওয়ার পর নতুন করে এ কম্পন অনুভূত হলো।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলের কাছে ১১২ কিলোমিটার (৬৯.৫ মাইল) গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ফিলিপাইনের জাতীয় ভূকম্পন সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের কর্মকর্তা কাইজার কাদিজ এএফপিকে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি এটিকে ‘মধ্যম মাত্রার’ ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার এখন উপকূলীয় এলাকা পর্যবেক্ষণ করা, যাতে সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায় কি না তা নির্ধারণ করা যায়। এমন ঘটনা সম্ভাব্য সুনামির পূর্বাভাস হতে পারে।’ তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও তিনি জানান।
গত ৮ জুন মিন্দানাওয়ে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ওই ভূমিকম্পের পর পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।
প্রথম ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকেই এলাকায় একের পর এক শক্তিশালী আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হতে থাকে। এর মধ্যে ৬.৫ মাত্রার একটি কম্পনও ছিল।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, ৮ জুনের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও অন্তত ৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, ওই ভূমিকম্পের ফলে একটি উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রতল প্রায় ২ মিটার (৬.৬ ফুট) ওপরে উঠে এসেছে। এতে আগে পানির নিচে থাকা প্রবালপ্রাচীর জেগে উঠেছে এবং উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটি তীব্র ভূকম্পন কার্যকলাপের জন্য পরিচিত।
দক্ষিণ মিন্দানাও উপকূল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কোটাবাটো ট্রেঞ্চ এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখানে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের একটি ‘স্বর্ম’ বা ধারাবাহিক কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।
এছাড়া গত অক্টোবর মাসে পূর্ব মিন্দানাওয়ে ৭.৪ ও ৬.৭ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে অন্তত আটজন নিহত হয়।