সিলেটের তিন জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংকে একই সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রায় ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়, নদী, চা-বাগান ও পাথুরে জলধারার পাশ দিয়ে গড়ে উঠবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন রুট। বর্তমানে সাদাপাথর থেকে জাফলং যেতে হলে পর্যটকদের সিলেট শহর হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটিই বেড়ে যায়। নতুন সড়ক চালু হলে সিলেট শহরে না গিয়েই সরাসরি সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলং ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। ফলে নির্ঝঞ্ঝাটে একদিনেই তিনটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের এক অংশে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এবং বিছনাকান্দির মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। অপর অংশে রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত আরও ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। পুরো রুটে চারটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে এলজিইডি সূত্রে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানান এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান।
স্থানীয়রা বলছেন, এই সড়কের অন্যতম আকর্ষণ হবে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পুরো পথজুড়ে থাকবে পাহাড়ের সারি, পিয়াইন ও ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারা এবং সবুজে ঘেরা গ্রামীণ জনপদ। পথে দেখা মিলবে সাদাপাথরের সাদা পাথরে মোড়া নদী, বিছনাকান্দির পাথুরে জলপ্রবাহ এবং জাফলংয়ের ডাউকি নদীর অপরূপ সৌন্দর্যের। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনা ও মেঘের আনাগোনায় এ সড়কের সৌন্দর্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
৫ নম্বর উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী গ্রামীণ জনপদের চিত্র বদলে যাবে। একই ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, পর্যটনের পাশাপাশি যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সরেজমিন কথা হয় উৎমাছড়া এলাকায় বেড়াতে আসা পর্যটক শিপন চন্দ্রের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, পর্যটন সড়কটি চালু হলে সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে। সিলেট শহর ঘুরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। আরেক পর্যটক জাবের আহমদের ভাষায়, এখন সবগুলো জায়গা ঘুরতে দুই দিন লাগে। নতুন সড়ক হলে একদিনেই ভ্রমণ শেষ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই পর্যটন সড়ক শুধু ভ্রমণকে সহজ করবে না, বরং সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে। স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ, নৌযান পরিচালনা, পর্যটনসেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি কৃষকরাও সহজে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ভোলাগঞ্জ থেকে জাফলং পর্যন্ত সীমান্তের বুক চিরে গড়ে উঠতে যাওয়া এই সড়ক সিলেটের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরবিএন