নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে জেসমিন বেগম (৩৩) নামে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী মো. জসিম শেখ (৩৬)। হত্যার পর স্বামী জসিম শেখ লোহাগড়া থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের করফা গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। লোহাগড়া থানার ওসি তদন্ত অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জেসমিন বেগম উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের করফা গ্রামের সিদ্দিক মীরের মেয়ে। এবং জমিস শেখ একই গ্রামের মোমরেজ শেখের ছেলে। অভিযুক্ত জসিম শেখ পেশায় নির্মাণশ্রমিক হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের করফা গ্রামের জসিম শেখের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে জেসমিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ৮ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্ধ-কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বামী জসিম ও স্ত্রী জেসমিনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জসিম হাতুড়ি দিয়ে জেসমিনের মাথায় আঘাত করলে জেসমিন গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা গুরুতর আহত জেসমিনকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থায় অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বিকালে ঢাকায় একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থানায় এসে জসিম শেখ আত্মসমর্পণ করে। পরে আহত গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা গেছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/জোই