গাইবান্ধায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও রোগী হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় স্থানীয়দের বিভিন্ন অভিযোগ শুনে ও হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি, এখানে অনেক বিষয়ে গাফিলতি রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারবেন না। রোগীরা যেন হয়রানি ছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবস্থা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দেখে তিনি দায়িত্বশীলদের সতর্ক করেন।
এর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও সরকারি ওষুধ রোগীদের না দেওয়ার অভিযোগে দুই স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী জানতে পারেন, কুকুরের কামড়ে আহত এক নারী হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে তা কিনেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি।
পরে সরকারি ওষুধ সরবরাহে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী এবং মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক ও নার্সদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দেশের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলো আধুনিকায়ন ও সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সময়ের আলো/এমকে