চট্টগ্রামের লোহাগাাড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও গুদামে জায়গা না থাকার অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক কৃষককে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, গুদামে জায়গা নেই বলে অনেক কৃষককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেক কৃষক। সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নেই। তাই প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এভাবে চললে কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
চুনতী ইউনিয়নের সুফীনগর এলাকার কৃষক শাহাদত হোসেন শেকু বলেন, তিনি ও আলমগীর নামে অন্য এক কৃষক ২০ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের। তিনি আরও বলেন, ঈদুল আযহার আগে খাদ্য অফিসারের কাছে গেলে তিনি ঈদের পরে যেতে বলেন। ঈদের পরে গেলে খাদ্য অফিসার ধান ক্রয়ের কোটা শেষ বলে জানান। এভাবে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গুদামে দাম বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ধারণা ঈদুল আযহার বন্ধের সময় প্রভাবশালীদের কাছে থেকে ধান কিনে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলাউজানের কৃষক আবদুল আজিজ ও আমিন শরিফ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা খাদ্য গুদামে যাওয়া আসা করছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গুদামে জায়গা নেই, পরে আসেন বলে বিদায় করছেন। ধান বিক্রি করতে পারবো কিনা জানি না।
সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক ছোট-বড় ট্রাকে করে, বিক্রি করতে ধান নিয়ে এসেছেন। খাদ্য গুদামে জায়গা না থাকায় তাদের ধান গাড়িতে রেখে চলে গেছেন অনেক কৃষক। গুদামের বাইরেও ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা আছে। গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক। এ ছাড়া কোনো কোনো কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে লোহাগাড়া উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট ৪০৪ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় উদ্বোধন করা হয় গত ১৮ মে। ধান সংগ্রহের সময় শেষ হবে ৩১ আগস্ট। ইতোমধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ মেট্রিকটন।
লোহাগাড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন বলেন, গুদামে ১১শ টন সরকারি চাল থাকার কারণে জায়গা নেই। তাই বোরো ধান সংগ্রহ ধীরগতিতে করতে হচ্ছে। এবছর উপজেলার ১৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হবে। কিন্তু ধান বিক্রি করতে আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রায় ১৪শ কৃষকের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও কৃষক হয়রানি কাম্য নয়। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই