বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, জিসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত চার সদস্যের বিশেষ মেডিকেল বোর্ড তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করেছে। মেডিকেল বোর্ডের সেই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র প্রদান করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৪ জুন) জিসানের সার্বিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এই বোর্ডের প্রধান ছিলেন কুমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. হেলালুর রহমান।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন— নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান, সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. শাহেদুল ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মজুমদার।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জিসান শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক ও সুস্থ আছেন বলে উল্লেখ করার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর বেষ্টনীতে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে গত ১১ জুন রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধান। এই ঘটনায় তার সন্ধান চেয়ে চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়েছিল, গত ১৩ জুন রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে শনিবার (১৩ জুন) জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পরিবারের এই দাবি নাকচ করে দেন।
তিনি জানান, পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় নাটকীয় আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে দাউদকান্দির এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারী জিসানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন, যার তদন্ত বর্তমানে চলমান।
সময়ের আলো/জেডি