বিশ্ব ফুটবলে প্রায়ই দেখা যায় ছোট ছোট দেশ নিজেদের সামর্থ্য, পরিকল্পনা ও সঠিক কাঠামোর মাধ্যমে বড় সাফল্য অর্জন করছে। মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে কিংবা প্রায় দেড় লাখ মানুষের কুরাসাও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ এখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্নই দেখে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা স্পেনের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি পরিচিত না হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে— ফুটবল বিশ্বে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে জনসংখ্যা নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও সুযোগের।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মনে তাই প্রশ্ন জাগে, দেশের কোনো ফুটবলার কি কখনও বিশ্বমঞ্চে এমনভাবে পরিচিতি পাবেন না? এমন কোনো দিন কি আসবে না, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের নাম উচ্চারিত হবে সমান আগ্রহে?
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি রঙিন হয়ে ওঠে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায়। তবে নিজেদের জাতীয় দলের পতাকা নিয়ে বিশ্বকাপ উদযাপনের সুযোগ এখনও পায়নি বাংলাদেশ। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
বিশ্ব ফুটবলে ছোট দেশগুলোর সাফল্যের পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে প্রবাসী ও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের কার্যকরভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা। কেপ ভার্দের বর্তমান দলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেলোয়াড় বিদেশে জন্মগ্রহণ বা বেড়ে ওঠা। একইভাবে ইউরোপের অনেক সফল জাতীয় দলও প্রবাসী শিকড়ের ফুটবলারদের ওপর নির্ভর করেছে।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স ফুটবল দলেও বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় ছিল অন্য দেশে। আধুনিক ফুটবলে এটি এখন একটি স্বীকৃত বাস্তবতা।
বাংলাদেশেও সম্প্রতি হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি নতুন আশার সঞ্চার করেছে সমর্থকদের মধ্যে। অনেকের মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা আরও যোগ্য বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে আনার উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে বা কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন একটাই— বিশাল জনসংখ্যা, বিপুল সমর্থন ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ কবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের জায়গা করে নেবে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে দেশের ফুটবল ঘিরে সমর্থকদের আক্ষেপ ও অপেক্ষা যে এখনও শেষ হয়নি, সেটি স্পষ্ট।
/কহু