রংপুরে থুথু ফেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মো. শাওন (২৫) নামের এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন দোকান মালিক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টায় নগরীর খামার মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত দোকান মালিক মিজানুর রহমান মনুকে (৩০) আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী রাতে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত শাওন গত চার বছর ধরে খামার মোড়ের একটি পুড়ি-পিঁয়াজুর দোকানে কর্মচারীর কাজ করে আসছিলেন। রাতে তিনি দোকান থেকে রাস্তার দিকে বের হলে, পেছন থেকে দোকান মালিক আমির হোসেনের ছেলে মনু হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শাওন গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মনুকে ধরে ফেলেন এবং শাওনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শাওনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
এদিকে মনুর পরিবারের দাবি, মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ওঝার মাধ্যমে তার চিকিৎসা করানো হচ্ছিল।
তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মনু পুলিশকে বলেছেন যে দোকানের থালা-বাসন ধোয়ার জায়গায় শাওন প্রায়ই থুথু ফেলতেন। বারবার বারণ করার পরও শাওন একই কাজ করায় আজ রাতে তাদের মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মনু হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শাওনকে হত্যা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনুকে কোনোভাবেই মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। তারপরও বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/জেডি