নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর তীরে মাছ ধরা নৌকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সাহাবুল ইসলাম (৪৫) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। তিনি পাশ্ববর্তী ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর এলাকার ইউনুছ প্রামানিকের ছেলে। এই ঘটনায় মো. রবিউল ইসলাম (৩৭) নামে আরও এক জেলে আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাহাবুল ইসলাম ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম গত দুই দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে পদ্মা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে মাছ ধরছিলেন। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে আনুমানিক আড়াইটার দিকে লালপুর উপজেলার রাইটার চরে পদ্মা নদীর কিনারায় তাদের নৌকা অবস্থান করছিল। এসময় চর থেকে মোটরসাইকেলযোগে আসা ৫ থেকে ৬ জনের একদল অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র সন্ত্রাসী নদীর কিনারা থেকে নৌকাটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে।
সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলামের ডান কাঁধের পেছনে গুলি লাগে এবং বুক ও হাড় ভেঙে গুলিটি বের হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির শব্দে ও আতঙ্কে নৌকায় থাকা অপর জেলে রবিউল ইসলাম পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন। সাঁতরে দূরে চলে যাওয়ার কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শরীরে ও দুই হাতে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়, বলেও জানা যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ১৬ জুন বিকাল ৩ টার দিকে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত সাহাবুল ইসলামের মৃতদেহ এবং মাছ ধরার শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা