দিল্লিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন

এমএকে জিলানী

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে গত রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে

2026-06-17T01:01:24+00:00
2026-06-17T01:01:24+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জাতীয়
দিল্লিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:০১ এএম   (ভিজিট : ১৬)
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে গত রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার না করার বিষয়টি। এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে, যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

সাবেক রাষ্ট্রদূতদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার না করে সরকারি সফরে যাওয়া বিচক্ষণতার পরিচায়ক নয়; বরং এতে দুই দেশের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে যায়। পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা ঘটনায় তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত রোববার দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসেন।

কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, জাহেদ উর রহমান সরকারি দায়িত্বে সফর করলেও কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি, যা প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তার পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হয়। 

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দেখতে পান, তিনি সরকারি প্রতিনিধি হলেও সাধারণ পাসপোর্ট বহন করছেন। একই সময়ে তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক প্রতিনিধিও ছিলেন। এ অবস্থায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা যোগাযোগ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। মিললেও তথ্য উপদেষ্টা সফর অব্যাহত না রেখে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরেও কিছু কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিতে অতিথি অভ্যর্থনা, আসন বিন্যাস, করমর্দনের সময় ও ধরন, জীবনসঙ্গীর উপস্থিতি, এমনকি কোন পর্যায়ের অতিথির জন্য মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজের আয়োজন হবে- এসব বিষয়ও নির্ধারিত থাকে। একেক দেশ নিজের মতো করে সেই রীতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশেও এ ধরনের লিখিত প্রটোকল রয়েছে, তবে বর্তমানে তা সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি অনুসরণ করা হয় না।

ঢাকার এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঘটনার পর সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তার মতে, ঘটনার পেছনে ঢাকারও কিছু ত্রুটি থাকায় বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকা হয়েছে।

মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিইনি। অন্য কোনো কারণে নয়, নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়নি। আমার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল। ফলে কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই এটি কার্যকর হওয়ার কথা। আমি যদি কোনো দিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিই, তা হলে কি আমার বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাবে? কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; এটি একটি বিশেষ সুবিধা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে ব্যক্তিগতভাবে যাইনি; এই সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেই গিয়েছিলাম। ফলে আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন। সে কারণেই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা আমাকে ভারতে প্রবেশ করে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে আমার মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া দরকার।’

এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এ নিয়ে চাপ তৈরি করা উচিত নয়। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার না করা তথ্য গোপনের শামিল। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস’ ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। আপনি যদি সরকারের বেতনভুক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তি হন, তা হলে নিজের সরকারি পরিচয় গোপন রেখে ভ্রমণ করা যথাযথ নয়।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত রাশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। একদিন দেরি হলেও তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে সফর করা উচিত ছিল। ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না; তারা পাসপোর্ট দেখেই পরিচয় শনাক্ত করেন। তাই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার না করা দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে তথ্য উপদেষ্টা প্রত্যাশিত বিচক্ষণতার পরিচয় দেননি।’

/এসএকে


  বিষয়:   দিল্লি  অনাকাঙ্ক্ষিত  ঘটনা  বিচক্ষণতা  প্রধানমন্ত্রী  উপদেষ্টা  জাহেদ উর রহমান 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: