দাফনের ১৮ দিনের মাথায় তরুণীর কবর খুঁড়ল পরিবার, দেখলো জীবিত না মৃত

ভোলা প্রতিনিধি

সারাদেশ

জীবিত আছেন এমন স্বপ্নে দেখে তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা। ভোলা সদর উপজেলার বেলুনিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটে। এ

2026-06-17T10:33:10+00:00
2026-06-17T12:26:51+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
দাফনের ১৮ দিনের মাথায় তরুণীর কবর খুঁড়ল পরিবার, দেখলো জীবিত না মৃত
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম  আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ১২:২৬ পিএম  (ভিজিট : ৩৬)
স্বপ্নে দেখে তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা। ছবি : সময়ের আলো
জীবিত আছেন এমন স্বপ্নে দেখে তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা। ভোলা সদর উপজেলার বেলুনিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল ও সৃষ্টি হয়েছে। দাফনের ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খোঁড়েন স্বজনরা৷

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মরিয়ম ওই একই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ে ছিলেন।

সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। 

গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন মরিয়ম। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন মরিয়ম নিজ বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। 

দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই এলাকায় আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

স্থানীয় মসজিদের খতিব আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। এটি অবাস্তব।

অন্যদিকে, কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন। 

আরও জানা গেছে, সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩-৪শ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে, পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন বলে সচেতন মহলের ধারণা।

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন, পড়ে তাকে তার বাবা মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে। 

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন, মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে, আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। ‘কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে, কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইন’। 


এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন, আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুড়েছে, বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল, এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   দাফন  তরুণী  কবর খুঁড়ে  স্বজনরা  জীবিত না মৃত 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: