সুইডেনে বসবাসরত এবং ভবিষ্যতে বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) প্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য কঠোর আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। এখন থেকে সেখানে রেসিডেন্সি পারমিট ধরে রাখতে অভিবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘ভালো আচরণবিধি’ মেনে চলতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে যেকোনো সময় পারমিট বাতিল হতে পারে।
নতুন আইন অনুযায়ী, সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করা, কর ফাঁকি দেওয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে ‘খারাপ আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নিয়ম নতুন আবেদনকারী এবং বর্তমানে বৈধভাবে বসবাসকারী— সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে।
এদিকে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা অনিয়মিত অভিবাসীদের শনাক্ত করতে ‘স্নিচ ল’ নামের একটি বিতর্কিত আইনও পাস হয়েছে। এর অধীনে কর কর্তৃপক্ষ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক বীমা সংস্থার কর্মীদের বাধ্য করা হয়েছে যেন তারা কোনো অবৈধ অভিবাসীকে সন্দেহ করলেই পুলিশকে জানান।
তবে তীব্র সমালোচনার মুখে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজকর্মীদের এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কারো আচরণ অগ্রহণযোগ্য কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি। তবে পারমিট বাতিল হলে অভিবাসীরা আইনি আপিল করার সুযোগ পাবেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের সমালোচনা করে বলেছে, ‘ভালো আচরণের’ অস্পষ্ট মাপকাঠির কারণে বৈধ অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন।
আগামী সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেই এই কঠোর আইনগুলো কার্যকর হতে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি