ঘুম মহান আল্লাহর এক অসীম নিয়ামত, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে ঘুমকে বিশ্রাম ও প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানও পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব স্বীকার করে, যা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম, রাতকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকা আহরণের সময়’। (সুরা নাবা, আয়াত : ৯-১১)
ঘুম মানুষের ক্লান্তি, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দূর করে তাকে নতুন কর্মশক্তি দান করে। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত—সবার জন্যই এ নিয়ামত সমানভাবে উন্মুক্ত। অনেক সময় দেখা যায়, বিলাসবহুল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও কেউ ঘুমাতে পারে না, আবার সামান্য সুযোগ-সুবিধাতেও কেউ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়। এতে স্পষ্ট হয়, ঘুম আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
আল্লাহ শুধু ঘুমই দান করেননি, ঘুমের উপযোগী পরিবেশ হিসেবে রাতও সৃষ্টি করেছেন। রাতের নীরবতা ও অন্ধকার মানুষের বিশ্রামের জন্য সহায়ক। একই সঙ্গে দিনের আলোকে জীবিকা অর্জনের সময় নির্ধারণ করেছেন, যাতে মানুষ পরিশ্রম করে জীবনধারণের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের কোষ মেরামত করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে। দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ইসলাম মানুষের জন্য রাতের বিশ্রাম ও দিনের কর্মব্যস্ততাকে আদর্শ জীবনধারা হিসেবে নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে প্রয়োজনের কারণে রাতে কাজ করা বা দিনে ঘুমানো বৈধ। তবুও সুযোগ থাকলে রাতের ঘুমকে প্রাধান্য দেওয়াই উত্তম। কারণ এটি মানব প্রকৃতি, সুস্বাস্থ্য এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সময়ের আলো/এসএকে